ঢাকা, ২৫ মার্চ ২০২০: বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পরা নভেল করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ থেকে মুক্তির জন্যে সবাইকে কায়মনোবাক্যে আল্লাহর সাহায্য কামনা ও কঠোরভাবে স্বাস্থ্য সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের। আজ প্রদত্ত এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, নভেল করোনা ভাইরাস- কোভিড-১৯ বিশ^ব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পরেছে। ইতোমধ্যেই কয়েক লক্ষ মানুষ আক্রান্ত ও প্রায় ১৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশেও ইতোমধ্যে ৫ জন নিহত ও ৩৯ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। পৃথিবীর বড় বড় দেশ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েও করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে। এ অবস্থায় এ মহামারি থেকে দেশ জাতি ও বিশ^বাসীর পরিত্রাণের জন্য আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোন পথ নেই। তাই ্আল্লাহর সাহায্যের জন্য বেশি বেশি তাওবাই ইস্তিগফার করতে হবে। মানুষের আচরণের ত্রুটিসমূহ সংশোধন করতে হবে। জুলুম-জবরদস্তির পথ পরিহার করতে হবে। অজু গোসল নামাজসহ ইসলামী অনুশাসন মেনে চলতে সচেষ্ট হতে হবে। একই সাথে করোনভাইরাস সংক্রমণ রোধে ডাব্লিওএইচও (হু) এবং স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রদত্ত স্বাস্থ সতর্কতা প্রতিপালনে যতœবান হতে হবে। নিয়মিত সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়া, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলাসহ সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও সতর্ক থাকতে হবে। জনসমাগম এড়িয়ে চলার সতর্কতা মেনে চলতে যতœবান হতে হবে। নিজে সুরক্ষিত থাকা ও এ বিষয়ে সাধ্যমত অপরকে সচেতন করতে হবে।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, দু:খজনক বিষয় হলো, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে বাংলাদেশের প্রস্তুতি যথেষ্ট ছিলো না। অনেক গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়ে গেছে। এটা একটা জাতীয় দুর্যোগ, বৈশি^ক দুর্যোগ। এখন দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে। যারা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ সবাইকে যথাযথ ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই) সরবরাহ করতে হবে। সতর্কতা অবলম্বন করে সহানুভূতির সহিত রোগিদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হবে। যারা করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করছেন তাদের মধ্যে মুসলমানদের সতর্কতার সহিত যথাযথ ধর্মীয় বিধান অনুসরণ করে দাফনের ব্যবস্থা করতে হবে।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, এ করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব রোধে সংগত কারণে রাষ্ট্রীয়ভাবে অনেক পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। এসব পদক্ষেপের ফলে বর্তমানে স্বল্প আয়ের মানুষ বিশেষ করে যারা দিন আনে দিস খায় এসব লোকদের রোজগার বন্ধ। সবাইকে ঘরের মধ্যে থাকতে হচ্ছে। কিন্তু এ বিপদের মধ্যে নিত্যপয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বেড়ে গেছে। এই অবস্থায় স্বল্প আয়ের খেটে খাওয়া মানুষদের সরকারীভাবে খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করতে হবে। দ্রব্যমূল্য কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্তত: ৩ মাসের বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল মওকুফ করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে অসহায় ছিন্নমূল মানুষদের কাছে খাবার ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি সমাজের সচেতন ও বিত্তবানদেরও অসহায় ও অভাবগ্রস্থ মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, ঘরে থাকা অবস্থায় আমাদেরকে বেশি বেশি নামাজ, কুরআন তেলাওয়াতসহ এবাদত বন্দেগিতে আত্মনিয়োগ করতে হবে।