☰

শাহবাগ চত্ত্বর থেকে ১৩ দফা শিক্ষা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস

শিক্ষার গুণগত উন্নতি, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা এবং বেকারত্ব দূর করতে সরকারকে অবশ্যই বিশেষ নজর দিতে হবে —মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ
আজ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (শুক্রবার) রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের উদ্যোগে শিক্ষাখাতে মোট জিডিপির ৫% বরাদ্দ ও কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নসহ ১৩ দফা শিক্ষা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে “জাতীয় ছাত্র কনভেনশন” কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “শিক্ষার গুণগত উন্নতি, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা এবং বেকারত্ব করতে সরকারকে অবশ্যই বিশেষ নজর দিতে হবে।
শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে জ্ঞান অর্জন, বিবেক ও চিন্তাশক্তির বিকাশ সাধন এবং এর মাধ্যমে নৈতিক গুণাবলী সম্পন্ন মানবিক ও দক্ষ নাগরিক গড়ে তোলা। শিক্ষা শুধু পার্থিব কল্যাণ নয় বরং পরকালীন মুক্তির পথনির্দেশনাও দেয়, নৈতিক মুল্যবোধ সম্পন্ন মানুষ গড়ে তোলে। কিন্তু আমাদের সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় আজ ইসলামী মৌলিক শিক্ষা অনুপস্থিত। এই বহুধারায় বিভক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার অন্যতম অন্তরায়।
তিনি ছাত্র মজলিসের ১৩ দফা শিক্ষাদাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়ে বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার সকল স্তরে কুরআন ও প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করুন। ছাত্রীদের জন্য আলাদা শিফটে ক্লাস গ্রহণ এবং গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ চালু করুন। আগামী অর্থবছর থেকেই শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। সরকারি নিয়োগসহ সকল পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ এবং মেধার মূল্যায়ন করুন। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা এবং বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুন। আলিয়া মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কওমি মাদরাসা সনদের স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করুন। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ এসব অবিলম্বে এসব বাস্তবায়ন দেখতে চায়। বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বহুমাত্রিক ষড়যন্ত্র এখনো চলছে। আমাদের আগামী প্রজন্মের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধকে যে কোন মূল্যে সুরক্ষা দিতে হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী বলেন, “নতুন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোকে দখল করার ষড়যন্ত্র লক্ষ্য করছি। ছাত্র মজলিসের একজন কর্মী দাঁড়িয়ে থাকতে কোনো ক্যাম্পাসকে বিপথে যেতে দেবে না।” এসময় তিনি নিয়মিত ছাত্র সংসদ চালু রাখার জোর দাবিও জানান।
সেক্রেটারি জেনারেল জাকারিয়া হোসাইন জাকিরের সঞ্চালনায় ছাত্র কনভেনশনের উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করেন ইসলামী ছাত্র মজলিসের প্রথম শহীদ আরমান (রহ:) এর বড় ভাই মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের মাননীয় ধর্ম উপদেষ্টা ড. মাওলানা আ ফ ম খালিদ হাসান, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক আ খ ম ইউনুস, উর্দু বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুফতি গোলাম রাব্বানী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ঢাকা সিটি কলেজের অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসীর আলী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল জলিল, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রুহুল আমিন সাদী, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল করিম, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল হাফিজ খসরু, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ইসলামী যুব মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সোহাইল আহমদ, শ্রমিক মজলিসের সেক্রেটারি এইচ এম এরশাদ, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা আজিজুল হক, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা ইলিয়াস আহমদ, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মনসুরুল আলম মনসুর, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মনির হোসাইন।
ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সহ সভাপতি খাইরুল আহসান মারজান, জাগপা ছাত্র কাফেলার সভাপতি আব্দুল রহমান ফারুকী, নাগরিক ছাত্র ঐক্যের সভাপতি সভাপতি মুহাম্মদ ফজলে রাব্বি।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ও ক্যাম্পাস সম্পাদক ইসমাইল খন্দকার, বায়তুলমাল সম্পাদক আহসান আহমাদ খান, অফিস সম্পাদক নূর মোহাম্মদ, ছাত্রকল্যাণ ও মাদরাসা কার্যক্রম সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এইচ এম শাহাব উদ্দিন, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ সভাপতি সাইফুদ্দিন আহমদ, পরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সাকিব মাহমুদ রুমী, পরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী সভাপতি মুহিবুর রহমান রায়হান, পরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগর সভাপতি ইকরামুল হক, পরিষদ সদস্য ও শাবিপ্রবি সভাপতি জুনায়েদ আহমাদ প্রমুখ।
জাতীয় ছাত্র কনভেনশন শেষে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালী শাহবাগ থেকে শুরু হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব অতিক্রম করে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে সমাপ্ত হয়।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের ১৩ দফা শিক্ষাদাবী
০১. শিক্ষাব্যবস্থার সকল স্তরে কুরআন ও প্রয়োজনীয় ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
০২. প্রতিটি ক্যাম্পাসে ধর্মীয় অনুশাসন পালন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকতে হবে।
০৩. সেশনজট নিরসন, নিয়োগসহ সকল পরীক্ষায় অনিয়ম ও দুর্নীতি রোধ এবং মেধার মূল্যায়ন করতে হবে।
০৪. ক্যাম্পাসে হল দখল, সিট বাণিজ্য, র‍্যাগিং কালচারসহ চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি বন্ধ করতে হবে।
০৫. শিক্ষাকে সহজলভ্য করতে শিক্ষা ফি, কাগজ, কলম ও বইসহ সকল শিক্ষা উপকরণের দাম কমাতে হবে।
০৬. বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শতভাগ আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
০৭. শিক্ষা খাতে দেশের মোট জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দিতে হবে।
০৮. সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্রীদের জন্য আলাদা শিফটে ক্লাস গ্রহণ এবং গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ চালু করতে হবে।
০৯. বেকারত্ব নিরসনে কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষিত বেকারদের জন্য বেকার ভাতা চালু করতে হবে।
১০. প্রতিটি জেলায় একটি করে সরকারি আলিয়া মাদরাসা এবং কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে হবে।
১১. প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু করতে হবে।
১২. বেসরকারি শিক্ষার উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারি অনুদান বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
১৩. পাঠ্যবইয়ে ইসলাম ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিরোধী লেখা বাতিল করতে হবে।