রোহিঙ্গ সংকট নিরসনে খেলাফত মজলিসের সেমিনারে ১৬ দফা সুপারিশ
ঢাকা, ৫ অক্টোবর ২০১৭: খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেছেন, রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমারের পূর্ণ নাগরিত্ব ও নিরাপত্তাসহকারে আরাকানে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। তাদেরকে জোরপূর্বক মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া যাবে না। মানবিক বিপর্যয়ের শিকার রোহিঙ্গা সমস্যা এখন একটি আন্তর্জাতিক বিষয়। তাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাথে নিয়ে রোহিঙ্গাদের সমস্যার সমাধান করতে হবে। খেলাফত মজলিস আয়োজিত ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান ও গণহত্যার শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে রক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আজ ৫ অক্টোবর ২০১৭, বৃহস্পতিবার সকাল ১০:৩০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে খেলাফত মজলিসের আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান ও গণহত্যার শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে রক্ষায় করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ পাঠ করেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।
সংগঠনের যুগ্মমহাসচিব শেখ গোলাম আসগর ও মুহাম্মদ মুনতাসিন আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে আলোচনা পেশ করেন- বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল(অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম, বীর প্রতীক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান জনাব শামসুজ্জামান দুদু, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান এডভোকেট আবদুর রকিব, জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা সৈয়দ মজিবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম. মুজাহিদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম, নিউ ন্যাশনের সাবেক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, সাংবাদিক ইব্রাহীম রহমান, অধ্যাপক মাওলানা আজীজুল হক প্রমুখ।
সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন সেমিনার বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষন সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল হালিম, অধ্যাপক মোঃ আবদুল জলিল, অধ্যাপক কে এম আলম, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন, আবদুল জব্বার, ছাত্র মজলিসের সেক্রেটারী জেনারেল খালেদ হোসেন, শ্রমিক মজলিস সভাপতি আলহাজ্ব নূর হোসেন প্রমুখ।
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল(অব:) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে। রাখাইনের সমস্যা ছাড়াও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বড় ধরনের পরিকল্পনা করে রেখেছে শত্রুরা। রোঙ্গিাদের তাদের বাসস্থান রাখাইনে স্বাধীনভাবে বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে। সেইফ জোনের নামে কোন ক্যাম্পে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া গ্রহনযোগ্য নয়। রোহিঙ্গাদের ভাসান চরে নেয়া উচিত হবে না। রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেখা গেছে কারা বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু। বাংলাদেশের কোন ছলনাময়ী ও প্রতারণার বন্ধুত্বের প্রয়োজন নেই।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির লোকেরা বাঙালী বলে মিয়ানমার যে অপপ্রচার চালাচ্ছে তা দৃঢ়তার সহিত খন্ডন করতে হবে। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের জন্যে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। সরকার জাতীয় ঐক্যের উদ্যোগ না নিলে অন্যান্য সব দল মিলে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।
বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ অসহনীয়। রোহিঙ্গাদের উপর এবারের নির্যাতনের শুরুর দিকে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি আমলে নেননি। তখন সরকার বর্ডার সিল করা, পুশব্যাক, নৌকা ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে জনগণ সোচ্চার হলে রোহিঙ্গাদের জন্যে বর্ডার খোলা হয়। যে কাজটি শুরুতে প্রদানমন্ত্রী করতে চাননি তার জন্যে আওয়ামীলীগ তাকে মানবতার জননী বলেতে চাচ্ছে, যা অত্যন্ত বিষ্ময়কর। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী নোবেলের কাছাকাছি বসে আছেন অথচ রোহিঙ্গা নির্যাতরের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি নিন্দা প্রস্তাব পর্যন্ত পাশ করাতে পারলেন না। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্যে ভারতের ত্রাণ গরু মেরে জুতো দানের মত।
দুদু বলেন, একজন সুস্থ মানুষ প্রধান বিচারপতিকে কি ভয়ংকরভাবে আড়ালে পাঠিয়ে দেয়া হলো, সে কাহিনী মিডিয়ায় তেমন না আসলেও সোস্যাল মিডিয়ায় কিছু এসেছে। এরকম একটি সরকারের কাছ থেকে আর্তমানবতার জন্যে সাহায্য আশা করা কোনভাবেই কাম্য নয়।
লিখিত প্রবন্ধে ড. আহমদ আবদুল কাদের রোহিঙ্গ সংকট নিরসনে ও সমস্যা সমাধানে ১৬ দফা সুপারিশ পেশ করেন-
১. অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দিয়ে অন্যান্য নাগরিকদের মতো তাদের যাবতীয় নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
২. রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূল করা ও গণহত্যাসহ যাবতীয় নির্যাতন নিপীড়ন বন্ধ করতে হবে।
৩. রাখাইন রাজ্যের মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে পূর্বতন ”ম্যায়ো ফ্রন্টিয়ার ডিস্ট্রিক” এর আদলে একটি বিশেষ অঞ্চল গঠন করে সেখানে মুসলমানদের নিরাপদে ও সম্মানের সহিত যাবতীয় নাগরিক অধিকারসহ বসবাস করার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
৪. মুসলমানদের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে ঘৃনা ছড়ানোকে বেআইনী ঘোষনা করতে হবে।
৫. মায়ানমার সরকার কর্তৃক নিয়োগ করা আনান কমিশনের সুপারিশসমুহ মায়ানমারের সরকারকে শর্তহীন ও পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
৬. যারা বাস্তুহারা হয়েছেন বিশেষকরে যারা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছেন তাদেরকে অবিলম্বে ফিরিয়ে নিতে হবে এবং তাদের স্বেচ্ছায় ফিরে যাওয়ার জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
৭. বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বর্তমানে সাড়ে পাচ লক্ষসহ মোট প্রায় ৯ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রি ও স্বাস্থ্য সেবা এবং আবাসস্থল নির্মাণের উপযুক্ত ব্যবস্থা করার জন্য জাতিসংঘসহ বড় বড় রাষ্ট্রগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।
৮. রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা বিশেষত: নারী শিশুদের নিরাপত্তা দান, সম্ভ্রম সংরক্ষণ ও পাচার ইত্যাদি থেকে সুরক্ষা দান করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৯. জাতিসংঘ,ওআইসি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আসিয়ানসহ সবাইকে মিয়ানমারের উপর কুটনৈতিক চাপ দিতে হবে। বিশেষকরে নিরাপত্তা পরিষদকে মিয়ানমার সরকার যদি অনতিবিলম্বে সমস্যা সমাধানে এগিয়ে না আসে তাহলে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে গণহত্যা ও নির্মূলের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য মায়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর পদক্ষেপ নিতে হ বে।
১০. মায়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি ও সেনাবাহিনী প্রধানসহ যারা এসব মানবতা বিরোধী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত তাদেরকে আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনার পদক্ষেপ নিতে হবে।
১১. রোহিঙ্গা প্রশ্নে মুসলিম উম্মাহর বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। এ জন্য ওআইসি’র জরুরী শীর্ষ সম্মেলন ডেকে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
১২. বিশ^ মুসলিমকে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সমর্থনে ও মায়মানমার সরকারের রোহিঙ্গা নিধনের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গড়ে তোলার জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসতে হবে।
১৩. বাংলাদেশ সরকারকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিশেষত: চীন, ভারত ও রাশিয়াকে রোহিঙ্গা সংকটের গভীরতা বুঝানোর জন্য ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। তাছাড়া জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন,ওআইসি,আসিয়ানসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের সাথে এ ব্যাপারে ব্যাপক কুটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে।
১৪. বাংলাদেশের মতো একটি জনবহুল দেশে লক্ষ লক্ষ শরণার্থীর আগমন ও মায়ানমার সরকারের উষ্কানিমূলক কার্যক্রম আমাদের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ এবং সামাজিক ও নিরাপত্তা সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এই সমস্যা ও সংকট মোকাবিলার জন্য সরকার, সকল রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণের জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন। এই ঐক্য তৈরির জন্য সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে।
১৫. মায়ানমারের সেনাবাহিনী কর্র্তৃক বাংলাদেশ সীমান্তে মাইন পুতে রাখা, বারবার আকাশ সীমা লংঘন ইত্যাদি উষ্কানীমূলক কর্মকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানানোর সাথে সাথে প্রয়োজনে বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্ত বরাবর প্রতিরোধমূলক সেনা সমাবেশ ঘটাতে হবে। বুঝিয়ে দিতে হবে যে বাংলাদেশ কোন অবস্থায়ই তার সার্বভৌমত্বের উপর হুমকী বরদাশত করবে না।
১৬. রোহিঙ্গা ইস্যুকে দ্বিপাক্ষিক নয় বরং মায়ানমারকে তার নীতি পরিবর্তনের জন্য এ বিষয়ে জাতিসংঘ ও বিশ্বশক্তিগুলোকে সংশ্লিষ্ট করা প্রয়োজন ।
ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, অতিসম্প্রতি মায়ানমার বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিকভাবে শরণার্থী সমস্যার সমাধানে সম্মতি প্রকাশ করেছে। আগ্রহটি ভালো কিন্ত সাথে সাথে এটাও মনে রাখা দরকার যে ১৯৭৮ ও ১৯৯২ সালেও মায়ানমার সরকার শরণার্থীদের ফিরিয়ে নেয়ার চুক্তি করেছিলো। কার্যত তারা চুক্তি মেনে চলে নি। আর যেসব শরণার্থী ফিরে গিয়েছিলো অন্যান্যদের সাথে তাদেরকেও আবার ফেরত আসতে হয়েছে। রোহিঙ্গারা কেন বাস্তুভিটা ছেড়ে বিদেশে আসতে বাধ্য হয়েছে সেটি অনুসন্ধান করে সে সমস্যার সমাধান ফেরত নেয়ার আগে হওয়া প্রয়োজন। ফেরত যাওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি না হলে শুধু কাগজে কলমে ফেরত নেয়া বা লোক দেখানো কিছু লোক ফেরত নেয়ায় রোহিঙ্গার সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। তাই আমাদের পরামর্শ বিষয়টি নিছক দ্বিপাক্ষিক নয় বরং মায়ানমারকে তার নীতি পরিবর্তনের জন্য জাতিসংঘ ও বৃহৎ শক্তিগুলোকে সংশ্লিষ্ট করা প্রয়োজন । তা নাহলে কয়দিন পর পরই সমস্যা তৈরি হবে। আমরা চাই সমস্যার স্থায়ী সমাধান। একটি জনগোষ্ঠির আতœ মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার ব্যবস্থা। আপাতত সমাধান নয়। আমরা মনে করি কমপক্ষে আনান কমিশনের সুপারিশগুলো যদি মায়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুতি আদায় সম্ভব হয় তখনই সমস্যা সমাধানের পথ খুলতে পারে। কাজেই কিছু লোক ফেরত নেয়ার কথা বললেই সমস্যা সমাধান হয়ে গেলো বলে যেন বাংলাদেশ মনে না করে। আর সন্ত্রাসবাদের ইস্যুটিকে মায়ানমার বড় করে দেখানোর কৌশলের কাছে যেন বাংলাদেশ নতি স্বীকার না করে বসে। কই রাখাইন গোষ্ঠীর আরাকান আর্মির(এএ) সঙ্গে মাঝে মধ্যে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ হয়। তাই বলে কি মায়ানমার সাধারণ রাখাইন জনগণকে রাজ্য থেকে কখনও উৎখাতের চেষ্টা চালিয়েছে? তাহলে রোহিঙ্গা জনগণের সঙ্গে দ্বিচারিতা কেন? বস্তুত সন্ত্রাসবাদের জিগির মায়ানমারের একটি কৌশল মাত্র। এটা আমাদের মাথায় রাখতে হবে।
তিনি বলেন, একটি জাতিগোষ্ঠী যেখানে গণহত্যার ও নির্মূলের শিকার সেখানে বিশ^ মানবতা ও বিশে^র রাষ্ট্রগুলো বিশেষত বড় রাষ্ট্রগুলোর বিরাট দায়িত্ব রয়েছে। দায়িত্ব রয়েছে জাতিসংঘের। অপরাধী দেশের কাছে কোন রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক স্বার্থ ও সুবিধার কারণে কোন রাষ্ট্রই তার মানবিক দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে মায়ামনমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলেও দায়িত্ব মুক্ত হওয়া যায় না। কেননা, কোন জনগোষ্ঠীর উপর গণহত্যা চালানো, কোন গোষ্ঠিকে নির্মূল করার পদক্ষেপ গ্রহন কখনই কোন রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয় হতে পারে না। এটা মানবজাতির বিরুদ্ধে অপরাধ। আশা করি পৃথিবীর বড় রাষ্ট্রগুলো এসমস্ত বিষয়গুলো অনুধাবন করার চেষ্টা করবে এবং সে অনুযায়ী ভূমিকা পালনে সচেষ্ট হবে। সাথে মুসলিম জনগণ ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বলিষ্ট ভূমিকা পালনে এগিয়ে আসতে হবে।