নির্বাচনের পূর্বেই শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হ*ত্যা*র বিচার নিশ্চিত করতে হবে – মুহাম্মদ রায়হান আলী
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ রায়হান আলী বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে হত্যার শিকার হওয়ার দুই সপ্তাহ অতিক্রান্ত হলেও সরকারের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হত্যাকারীকে গ্রেফতার করা তো দূরের কথা, তার অবস্থান শনাক্ত করতেও সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এটি জুলাই বিপ্লবপরবর্তী সরকারের চরম ব্যর্থতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ। ২৪পরবর্তী সময়ে জনগণের প্রত্যাশা ছিল এই দেশে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু শত শত মানুষের রক্তদানের পরও সেই আকাঙ্ক্ষা আজও অধরা রয়ে গেছে।
আমরা লক্ষ্য করছি, বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বৈরাচারী শক্তির মদদপুষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় সরকারের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে।
জুলাই বিপ্লবের সম্মুখ যোদ্ধা ওসমান হাদীকে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করার মাধ্যমে তারা এক ঘৃণ্য ও ভয়াবহ নজির স্থাপন করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের দায় বর্তমান সরকার কোনোভাবেই এড়িয়ে যেতে পারে না। যে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, সেই বিপ্লবী তরুণদের হত্যার ঘটনায় সরকারের রহস্যজনক উদাসীনতা প্রমাণ করে এই সরকার কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে যদি সত্যিকার অর্থে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে হয়, তবে অবশ্যই নির্বাচনের পূর্বেই শহীদ ওসমান হাদীর হত্যার বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার বিষয়ে জনমনে গভীর আশঙ্কা থেকেই যাবে।
২৭ ডিসেম্বর পল্টনস্থ রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে নির্ধারিত সহযোগী সদস্যদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী কেন্দ্রীয় কর্মশালা ২০২৫ এর সমাপনী অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল জাকারিয়া হোসাইন জাকির এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী কর্মশালার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন খেলাফত মজলিসের নায়বে আমির মাওলানা সৈয়দ ফেরদাউস বিন ইসহাক, যুগ্ম মহাসচিব এবিএম সিরাজুল মামুন, বিশিষ্ট লেখক কবি মুসা আল হাফিজ, ছাত্র মজলিসের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী আব্দুল হাফিজ খসরু, খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগরী উত্তরের সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা সাইফ উদ্দিন আহমদ খন্দকার।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইসমাইল খন্দকার, বায়তুলমাল সম্পাদক আহসান আহমাদ খান, অফিস ও পাঠাগার সম্পাদক অফিস সম্পাদক নূর মোহাম্মদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান ত্বহা, ছাত্রকল্যাণ ও মাদরাসা কার্যক্রম সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি এইচএম শাহাব উদ্দিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সাইফুদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাকিব মাহমুদ রুমী, সিলেট মহানগর সভাপতি মুহিবুর রহমান রায়হান, কুমিল্লা মহানগর সভাপতি ইকরামুল হক, সাবেক কেন্দ্রীয় জোন সদস্য তৌফিক বিন হারিছ প্রমুখ।