বিডিআর বিদ্রোহের নামে সেনা অফিসার হত্যাকাণ্ডসহ সকল খুনের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার শুরু করুন – খেলাফত মজলিস
স্বৈরাচারী খুনী হাসিনা ও তার দোষরদের বিচার দাবি এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আগামী ২৩ আগস্ট শুক্রবার দেশব্যাপী সমাবেশ ও মিছিলসহ ৩ মাসের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সাধারণ অধিবেশনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সাধারণ অধিবেশনে বলা হয়, ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে বহুমুখী ষড়যন্ত্র চলছে। পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির নানা অপচেষ্টায় লিপ্ত। ছাত্র-জনতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে থেকে তা মোকাবেলা করতে হবে। আমরা জানি বিশাল চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন সরকারকে পথ চলতে হচ্ছে। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নিম্নোক্ত প্রস্তাবনাগুলো দ্রুত কার্যকরের আহ্বান জানাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নেওয়া। শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কার। গ্রেফতারকৃত সকল ছাত্র-শিক্ষক-রাজনীতিবিদ, আলেম-উলামা ও সাধারণ মানুষকে নি:শর্ত মুক্তি। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে নিহত সকল শহীদ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান দ্রুত কার্যকর। আহতদের জরুরি ভিত্তিতে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা।
বিডিআর বিদ্রোহের নামে সেনা অফিসার হত্যাকাণ্ড সহ সকল খুনের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচার। গুম হওয়া ব্যক্তিদেরকে উদ্ধার করা। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন সহ সবকিছু ঢেলে সাজানো। বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদেরকে প্রত্যাহার। বিগত স্বৈরাচার-ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী রাজনৈতিক দলসমূহকে বয়কট। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ী-ঘর, উপাসনালয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ পেশাগত কোন কাজে হামলার ঘটনা প্রতিরোধ। নতজানু পররাষ্ট্রনীতি পরিহার করা। আরব আমীরাত, সৌদি আবর-সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছাত্র আন্দোলনে সংহতি জানাতে গিয়ে আটক বাংলাদেশী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের দ্রুত মুক্তির উদ্যোগ ও তাদের পরিবারকে নিয়মিত মাসিক আর্থিক সহযোগিতা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি কল্পে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও অবিলম্বে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাত থেকে অস্ত্র উদ্ধার অভিযান শুরু করা। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে রাষ্ট্রীয় সকল ব্যয়ের ক্ষেত্রে কৃচ্ছতা সাধন, দুর্নীতি দমন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যাংক ঋণ সহজীকরণ এবং রেমিটেন্স আয়, ক্ষতিগ্রস্থ ফ্রিল্যান্সিং, আইটি ও রপ্তানীমুখী গার্মেন্টস শিল্পকে প্রণোদনা দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ সকল জিনিস সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানাচ্ছি।

আজ ১৭ আগস্ট ২০২৪ অনুষ্ঠিত শনিবার সকাল ৯টায় পুরানা পল্টনস্থ ফেনী সমিতি মিলনায়তনে আমীরে মজলিস মাাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত অধিবেশনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ, সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব- এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পষিদ সদস্য মাওলানা ফেরদাউস বিন ইসহাক, ডা. আবু হোসেন, যুগ্ম-মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, এবিএম সিরাজুল মামুন, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, অধ্যাপক মো: আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক- এডভোকেট মিজানুর রহমান, মাওলানা সামছুজ্জামান চৌধুরী, অধ্যাপক এ এস এম খুরশীদ আলম, মাস্টার আবদুল মজিদ, অধ্যাপক আহমদ আসলাম, মাওলানা শেখ সালাহউদ্দিন, প্রশিক্ষণ ও প্রকাশনা সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, আলহাজ¦ আবু সালেহীন, ডা. রিফাত হোসেন মালিক, প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, মুফতি শিহাবুদ্দীন, অধ্যাপক আবু সালমান, তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান, ডা. আসাদুল্লাহ, খন্দকার শাহাবুদ্দিন আহমদ, মুফতি আবদুল হক আমিনী, মোঃ জহিরুল ইসলাম, মো: জিল্লুর রহমান, বোরহান উদ্দিন সিদ্দিকী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফয়জুল ইসলাম, এ্যাডভোকেট শাইখুল ইসলাম, অধ্যাপক মাওলানা আজীজুল হক, হাফেজ মাওলানা আবু সালমান, মাওলানা আহমদ বিলাল, মাওলানা মাহবুবুর রহমান হানিফ, হাজী নূর হোসেন, মাওলানা আফতাব উদ্দিন, মোঃ সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা সাইফ উদ্দিন আহমদ খন্দকার, কাজী ফিরোজ আহমদ, মাওলানা নেহাল আহমদ, আলহাজ¦ আবু আদিবা, মো: আবুল হোসেন, প্রিন্সিপাল মাওলানা আজীজুল হক প্রমুখ। অধিবেশনে সারা দেশের জেলা ও মহানগরী শাখা থেকে আগত মজলিসে শূরার সদস্যবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
