ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর উগ্রবাদী আক্রমণ বন্ধ করতে হবে: খেলাফত মজলিস

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের মাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত

ঢাকা, ০৭ মে ২০২৬:
খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগের সাথে বলেন, ভারতে সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্য বিধান সভা নির্বাচন পরবর্তিতে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে তা উদ্বেগজনক| সেখানে সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর উগ্রবাদী হিন্দুদের নির্যাতনের মাত্রা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে| বিশেষ করে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে মুসলিমদেরকে বাংলাদেশী ট্যাগ দিয়ে নির্মম নির্যাতন করা হচ্ছে| তাদের মসজিদ, বাড়ীঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর করা হচ্ছে| শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হচ্ছে| এসব ঘটনায় বহু হতাহত হয়েছে| আসামে অনেক মুসলমান পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় ক্যাম্পে মানবেতর জীবনযাপন করছে| এমনকি বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলের হিন্দু কর্মীদের উপরও হামলা বেড়েছে| এতে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিচ্ছে| এসব ঘটনায় বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইনের আশংকাও বৃদ্ধি পাচ্ছে| আমরা উগ্র হিন্দুত্ববাদী কর্তৃক এসব বর্বর হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি| সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর উগ্রবাদী আক্রমণ বন্ধের দাবি জানাচ্ছি| ভারতকে নিজ দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানাচ্ছি| এসব ঘটনায় ভারত সরকারের প্রতি ক্ষোভ ও উদ্বেগ জানাতে আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি|

বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, মাদক, অশ্লীলতা, বিবাহ বহির্ভূত যৌনাচার, কিশোর গ্যাং প্রভৃতি সামাজিক অবক্ষয়ের মাত্রা বাংলাদেশে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে| শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষা ও সুস্থ সংস্কৃতি জোরদার, পারিবারিক-সামাজিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ এই মুহূর্তে বিশেষ প্রয়োজন| এবার হাওর অঞ্চলে আকষ্মিক জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে সরকারকে দাঁড়ানো দরকার| দেশের খাদ্য ও জ্বালানী নিরাপত্তা নিশ্চিতে আরো উন্নত ও টেকসই ব্যবস্থাপনার প্রতি সরকারকে মনোযোগী হওয়া উচিত| ফেনী, সিলেট, রংপুর সহ সাম্প্রতিক সময়ে বারবার বন্যা কবলিত অঞ্চলে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত এবং খাল খনন, উদ্ধার ও সংস্কার প্রক্রিয়া সরকারকে এই মৌসুমেই সম্পন্ন করতে হবে|

সরকারের প্রতি দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে আরো বলা হয়, গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কার করতে সরকারকে অবশ্যই আন্তরিক হতে হবে| বিএনপিকে ভুলে গেলে চলবে না, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হাজারো শহীদ ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের ত্যাগের বিনিময়ে তারা আজকে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে| এর ব্যাত্যয় ঘটলে জনগণের কাছে রাজনৈতিক বেঈমান ও ওয়াদা বরখেলাপকারী হিসেবে চিহ্ণিত হবে| জুলাই গণহত্যা সহ সকল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে ট্রাইব্যুনাল ও আদালতে জনবল বৃদ্ধি করতে হবে| শেখ হাসিনা সহ পলাতক দণ্ডপ্রাপ্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের উদ্যোগ ত্বরান্বিত করতে হবে|

গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আমীরে মজলিস মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মাসিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক সিরাজুল হক, মাওলানা সাইয়্যেদ ফেরদাউস বিন ইসহাক, যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, অধ্যাপক আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিজানুর রহমান, মুহাদ্দিস শেখ মুহাম্মদ সালাহউদ্দিন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রিফাত হোসাইন মালিক, আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শায়খুল ইসলাম, যুব বিষয়ক সম্পাদক তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, খন্দকার শাহাবুদ্দিন আহমদ, মুফতি আবদুল হক আমিনী, মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকার, আলহাজ্ব নুর হোসেন, মাওলানা ফারুক আহমদ ভুঁইয়া, মাওলানা নজরুল ইসলাম মাজহারী, আবুল হোসেন, আমির আলী হাওলাদার প্রমুখ|