সিলেটে ৮দলের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমীর

৬ ডিসেম্বর ২০২৫: খেলাফত মজলিসের আমীর ও ৮ দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ বলেছেন, ‘আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। নব্বই সালে এক স্বৈরাচার বিতাড়ন করেছিলাম এই দিন। ৯২ সালের এই দিনে প্রতিবেশী উগ্র শাসক গোষ্ঠী বিজেপি ও তাদের দোসরদের হাতে আমাদের বাবরী মসজিদ শহীদ করে দেয়া হয়। আজ একই দিনে সিলেটের এই সমাবেশ নতুন বিজয়ের সূচনা করলো।’

তিনি বলেন,’জুলাই সনদের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী করার জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের দাবীতে আমাদেরকে সোচ্চার থাকতে হবে।’

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন, জাতীয় সংসদের উভয়কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু, জাতীয় নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত, আওয়ামী লীগের গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান এবং আওয়ামী লীগের সব অপকর্মের সহযোগী জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার দাবিতে আন্দোলনরত ৮ দলের চলমান কর্মসূচীর অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাক্তার শফিকুর রহমান বলেন,’ স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিবাহিত হলেও এ জাতি মুক্তি পায়নি। পালাক্রমে একদল দখলদারীতে নামলে,আরেকদল লোটপাটে লিপ্ত হয়েছে।বেগম পাড়ায় সম্পদের পাহাড় জমিয়েছে।এভাবেই আমাদের স্বাধীনতা উত্তর ৫৪ বছর কেটেছে।এবার জনগণ জেগে উঠেছে।যারা একসময় নির্বাচন নির্বাচন তসবীহ জপ করতেন,এই গণ জাগরণ দেখে কেউ কেউ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা শুরু করেছেন। বাঁকা পথে ক্ষমতার স্বাদ পেতে বুঁদ হয়ে পড়ছেন।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা সৈয়দ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেন,’বিগত ৭ টি সমাবেশ প্রমাণ করেছে এদেশের জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে। আল্লাহ আমাদেরকে জিম্মি দশা থেকে রক্ষা করেছেন। এখন সুযোগ এসেছে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। তাই সরকার ঘোষিত সময়েই জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। কারো আবদারে পেছানোর চেষ্টা করা হলে জনগণ মেনে নেবেনা।’

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘জীবন দিয়ে জুলাই যোদ্ধারা যে ফ্যাসিবাদকে বিদায় করেছে,সেই ফ্যাসিবাদ আবার কায়েম হোক তা মেনে নবেনা।’
তিনি বলেন,’ জুলাই সনদ নিয়ে দেশ আজ ২ ভাগে বিভক্ত।একপক্ষ জুলাই সনদের বিপক্ষে।আর ৮ দল এবং দেশপ্রেমিক জনতা জুলাই সনদের পক্ষে।আগামী গণভোটে জুলাই সনদের বিপক্ষে যারা ‘না’ ভোটের ক্যাম্পেইন করবে,জনগণ তাদেরকে প্রত্যাখ্যান করবে।’

সমাবেশে ৮ দলীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাক্তার শফিকুর রহমান,ইসলামী আন্দোলনের আমীর মাওলানা রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক,খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড.আহমদ আবদুল কাদের,ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ,বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র সহ সভাপতি মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাওলানা সৈয়দ মুসাদ্দিক বিল্লাহ আল মাদানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করীম জালালী,জামায়াতে ইসলামির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা এটিএম মাসুম,বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক চান,জাগপার সহ সভাপতি রাশেদ প্রধান,জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব যুবায়ের,খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব ও সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য সেলিম উদ্দিন,খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় উলামা বিষয়ক সম্পাদক মুফতী আলী হাসান উসামা,ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মাহমুদুল হাসান,আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতী রেজাউল করীম আবরার ও খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা তাউহিদুজ্জামান প্রমূখ